এই হত্যাযজ্ঞ অতীত ও বর্তমান ছেদ করে প্রবাহিত। অসংখ্য প্রাণ এক মহাজালের মতো আবিষ্ট, প্রতিটি সুতোর সঙ্গে আরেকটি মিলে একে অপরকে বাঁধা। সহস্র যুগ পেরিয়ে গেছে, অবশেষে এই বিশ্ব প্রতীক্ষা করেছে দাবার শেষ চা
**শীতের শুরু। শহরে ঘণ্টার শব্দ প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। ঠান্ডা ও বরফ ছাদের কিনারায় জমে ঘন স্তর তৈরি করেছে।**
দুপুরের দিকে, রাস্তায় মানুষের চলাচল পাতলা। ঠান্ডা রাস্তা আগত-যাত্রীদের পায়ের শব্দে ধীরে ধীরে উষ্ণ হয়ে উঠছে।
**“চেন সহোদর, সাবধান…”** ধর্মীয় পোশাক পরা এক মধ্যবয়সী সাধক মানুষের ভিড়ে মিশে আছেন। ভ্রু কুঁচকে উদ্বিগ্নভাবে কথা বলছেন।
যাকে ‘চেন সহোদর’ বলা হচ্ছে, তার নাম চেন ঝুয়ান। যুবকটি মধ্যবয়সী সাধকের পাশে ঘেঁষে হাঁটছে। যদিও তার সাধনার স্তর সহোদরের থেকে কম নয়, তথাপি তার ভঙ্গি অত্যন্ত বিনম্র। তিনি মনোযোগ দিয়ে সহোদরের উপদেশ শুনছেন।
কিছুক্ষণ ভেবে আর কোনো ভুল-ত্রুটি না থাকায় মধ্যবয়সী সাধকের চিন্তিত মুখ কিছুটা শান্ত হলো। তিনি চেন ঝুয়ানের দিকে মাথা নেড়ে বললেন, **“প্রবীণ সদস্য গোপনে আমাদের এখানে পাঠিয়েছেন। কাজ শেষ হলে সম্প্রদায়ে ফিরে আমরা নিশ্চয়ই পুরস্কার পাব।”**
চেন ঝুয়ান শুনে মুখের কোণায় হাসি চাপতে পারলেন না। তাঁর সম্প্রদায় অত্যন্ত বড়। তাঁর সাধনার স্তরে সম্প্রদায়ের প্রবীণ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সহজ নয়, পুরস্কার পাওয়ার প্রশ্ন তো দূরের কথা। বর্তমান স্তরে পৌঁছাতে তাকে কত কষ্ট পেতে হয়েছে, তা সাধারণ মানুষ কল্পনাও করতে পারে না।
সম্প্রদায়ের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে সাধনা করার পর চেন ঝুয়ান অনেকদিন ধরে পৃথিবীর বাইরে আসেননি। এখন মন ভালো থাকায় তিনি চারপাশে তাকাতে লাগলেন।
রাস্তা প্রশস্ত। দুপাশে দোকানপাট সাজানো। আসা-যাওয়া করা মানুষেরা তাড়াহুড়োয়। মাঝে মাঝে কিছু সাধকের দেখা মেলে, সবার মুখে শুধু উদাসীনতা।
চোখ যেদিকে যায়, আশপাশের স্টলগুলোতে খাবার বা নানা প্রদর্শনী দেখতে মানুষ জমায়েত। ব্যবসাও জমজমাট। শুধু এক জায়গা একদম ফাঁকা।
চেন ঝুয়ানের দৃষ্টি স্থির হলো। স্টলের পেছনে কয়েকটি লম্বা বাঁশ দিয়ে এক ধরনের প